অনলাইন ডেস্ক
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ৩২ বার পঠিত
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সংস্থাটির রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। এ পরিস্থিতিতে করজাল সম্প্রসারণ এবং আয়কর রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। রিটার্ন জমা না দেওয়া করদাতাদের ঠিকানায় চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি মৃত ও দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় টিআইএনধারীদের শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ। অথচ গত অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন প্রায় ৫০ লাখ করদাতা। সে হিসাবে প্রায় ৮০ লাখ টিআইএনধারী রিটার্ন জমা দেননি। তাঁদের মধ্যে কতজন মারা গেছেন, কতজনের বর্তমানে করযোগ্য আয় নেই এবং কতজন ইচ্ছাকৃতভাবে রিটার্ন দাখিল করছেন না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই সংস্থাটির কাছে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, বিপুলসংখ্যক টিআইএনধারী থাকলেও তাঁদের সবাইকে কার্যকরভাবে করজালের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ প্রয়োজনে টিআইএন নিয়েছেন, কিন্তু বর্তমানে করযোগ্য আয় নেই—এমন ব্যক্তিও রয়েছেন। আবার রিটার্ন জমা না দেওয়া ব্যক্তিদের একটি অংশ মারা গেছেন। ফলে প্রকৃত করদাতা ও নিষ্ক্রিয় টিআইএনধারীদের আলাদাভাবে শনাক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানান, রিটার্ন জমা না দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে প্রতিটি কর অঞ্চল থেকে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। তবে অনেক করদাতার ঠিকানা ভুল কিংবা হালনাগাদ না থাকায় পাঠানো চিঠির প্রায় ৪০ শতাংশ ফেরত আসছে। অন্যদিকে, এসব চিঠির জবাব দিচ্ছেন মাত্র ১০ শতাংশ করদাতা। জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটের কারণেও নজরদারি কার্যক্রম সম্প্রসারণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে রিটার্ন জমা না দেওয়া টিআইএনধারীদের মধ্যে মৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে এনবিআর। এ ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা থেকে মৃত্যুজনিত কারণে বাদ পড়া ব্যক্তিদের তথ্যের সঙ্গে এনবিআরের টিআইএন ডেটাবেজ মিলিয়ে দেখা হতে পারে। পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তিদের টিআইএন শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে মৃত ব্যক্তি বা অপ্রয়োজনীয় টিআইএন অনলাইনে সরাসরি বাতিলের সুযোগ নেই। মৃত ব্যক্তির টিআইএন বাতিল করতে তাঁর উত্তরাধিকারীকে সংশ্লিষ্ট কর অফিস বা সার্কেলে আবেদন করতে হয়। ফলে মৃত ব্যক্তিদের সমন্বিত তথ্যভান্ডার না থাকায় তাঁদের টিআইএন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
শুধু মৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই নয়, দীর্ঘদিন রিটার্ন জমা না দেওয়া নিষ্ক্রিয় টিআইএনধারীদের চিহ্নিত করতেও কর অঞ্চলগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য হালনাগাদ না থাকায় এ কার্যক্রমে প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। বিষয়টি সমাধানে করণীয় নির্ধারণের জন্য একটি কমিটিও গঠন করেছে এনবিআর।
এ বিষয়ে পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, করজাল সম্প্রসারণের পাশাপাশি আয়কর রিটার্ন দাখিলের কার্যকারিতা বাড়ানো প্রয়োজন। মৃত ব্যক্তিদের নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি এবং এনবিআরের বিদ্যমান ডেটাবেজ হালনাগাদ করা জরুরি।
এদিকে এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯২ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৯০ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আদায় বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের শুরুতেই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বড় ঘাটতি তৈরি হওয়ায় করজাল সম্প্রসারণ ও রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে রাজস্ব সংস্থাটি।
Posted ১২:১৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন